অবিচার [ দশম পর্ব ] সালসাবিলা নকি

অবিচার [দশম পর্ব]

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

দ্বিতীয় পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

তৃতীয় পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

চতুর্থ পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

পঞ্চম পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

ষষ্ঠ পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

সপ্তম পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

অষ্টম পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

নবম পর্ব পড়তে ক্লিক দিন:

রৌদ্রোজ্জ্বল দিনটা হঠাৎ করেই মলিন হতে শুরু করেছে। ঝকঝকে আকাশটাকে অচিরেই দখল করে নিয়েছে রাশি রাশি কালো মেঘ। সেদিকে তাকিয়ে দ্রুত বাড়ির পথে হাঁটা দিয়েছে বাদল। মোমেনা আর তার ভাইকে গাড়ি ঠিক করে দিয়েছে সে। সাথে ভাড়াও দিয়ে দিয়েছে। এতটুকু ভদ্রতা না দেখালেই নয়। হাজার হোক তার বিয়ে করা বউ, তার সন্তানদের মা। সে নিরাপদে পৌঁছে যাক এটাই চায় সে।

কিন্তু মোমেনার বড় ভাই তার সম্বন্ধি মফিজ বড্ড ছ্যাঁচড়া কিসিমের লোক। নিজেরা মামলা করল, থানায় এসে বৈঠক করল, অথচ যাওয়ার সময় বাদলের ঠিক করে দেওয়া গাড়িতে নিঃসংকোচে উঠে পড়েছে! বাদল যখন ড্রাইভারকে ভাড়া দিচ্ছে, তখনো কোনো রা করেনি। এমন নির্লজ্জও মানুষ হতে পারে! বাদল অবাক হয়ে তখন থেকে এটাই ভাবছে।

ওদের সব ঠিকঠাক করে বিদায় দিতে গিয়েই তার দেরি হয়ে গেছে। আকাশের অবস্থাও গম্ভীর। মনে হচ্ছে তুমুল বৃষ্টি হতে পারে। জোরে জোরে পা চালায় সে। ঘরের উঠোনে পৌঁছাতেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। অল্পের জন্য কাকভেজা হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে সে। কোহিনূর গামছা নিয়ে এগিয়ে আসে। সেটা হাতে নেওয়ার সময় তার দিকে চোখ আটকে যায় বাদলের।

নিতান্তই সাদামাটা একটা শাড়ি পরেছে সে। হাল্কা বেগুনি রঙের সূতি শাড়িতে সাদা প্রিন্টের ফুল। হাতে সোনালি রঙের চুড়ি। বাদলের যতদূর মনে পড়ে সে স্বর্ণের কোনো গয়নাই দেয়নি কোহিনূরকে। এটা যে সাধারণ চুড়ি তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অলংকারবিহীন উন্মুক্ত গলায় একফোঁটা পানি চিকচিক করছে। কপালের সামনে ভেজা একগাছি চুল। বাঁ হাতে শাড়ির আঁচল কোনোমতে মাথায় টেনে ধরে রেখেছে। বোঝায়ই যাচ্ছে সদ্য গোসল সেরে এসেছে সে। স্নিগ্ধ একটা ভাব ছড়িয়ে আছে তার সারা মুখে।

গামছা সমেত ডানহাত বাদলের দিকে এখনো বাড়িয়ে ধরা। কোনো প্রসাধনী ছাড়া সাধারণ বেশভূষায় কাউকে এতটা অসাধারণ লাগতে পারে এটা জানা ছিল না বাদলের। তার মোহাবিষ্ট চাহনিতে অপ্রস্তুত হয়ে যায় কোহিনূর। গামছাটা হাতে ধরিয়ে দিয়েই সে দ্রুত সামনে থেকে সরে যায়।

রাতে বিছানায় ঘুম আসতে চায় না বাদলের। ইলেক্ট্রিসিটিবিহীন দুই কামরার এই বাড়িতে বাধ্য হয়েই থাকছে সে। দুদিনের জন্য গ্রামে আসলে মোমেনার কাছেই থাকত। কোহিনূর তার নামেমাত্র বউ। ঝোঁকের বশে বিয়ে করেছিল তাকে। এ কয়দিন এখানে থেকে, কোহিনূরকে আরও ভালোভাবে দেখেশুনে, বুঝতে পেরে মনে হচ্ছে সে তার ওপর অবিচার করে আসছে গত দুই বছর থেকে।

সেদিন দুপুরবেলা বাজার করতে গিয়েছিল বাদল। মোমেনার সাথে আগের রাতে বেশ চোটপাট হয়েছে। মোমেনা নিজেই মাতামাতি করেছে, আবার নিজেই অভিমান করে বসে আছে। তার রাগ ভাঙাতেই বাদল বাজারে এসেছে হাঁস কিনতে। নারকেল দিয়ে হাঁসের মাংস মোমেনার খুব পছন্দের খাবার। বাদলের হাতে হাঁস দেখামাত্রই তার অভিমানের বরফ গলতে শুরু করবে নিশ্চিত।

বাজারে পৌঁছে দেখে এক কোনায় বেশ ভিড় জমে আছে। কাছে গিয়ে দেখতে পায়, ভিড়ের মাঝখানে মায়ের লাশ নিয়ে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে কোহিনূর। কোহিনূর আর তার মাকে পাড়ার সবাই চেনে। বাড়িতে বাড়িতে ফরমায়েশ খেটে, কখনো ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করত কোহিনূরের মা। অন্যের দয়া-দাক্ষিণ্যে ও নিজের চেষ্টায় বহুকষ্টে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে কোহিনূর। হয়তো কলেজেও ভর্তি হতো। কিন্তু তার মা মরে গিয়ে তার সব স্বপ্নের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। এখন পুরো পৃথিবীতে সে একদম একা। তার সবকিছুই এখন অনিশ্চয়তার মুখে। এসব ভেবেই বোধহয় সে অমন পাথরের মতো হয়ে গিয়েছিল।

বাদলকে দেখে ভিড়ের মানুষজন একটু নড়েচড়ে দাঁঁড়াল। একটু আগেই শুধুমাত্র তামাশা দেখতে আসা মানুষগুলোই এখন লাশটা নিয়ে কী করলে ভালো হবে, কীভাবে করলে ভালো হবে এসব নিয়ে পরিস্থিতি সরগরম করে তুলছে। লাশের শরীরে পানি চলে এসেছে। কখন মারা গেছে জিজ্ঞেস করতেই ভিড়ের মধ্য থেকে একজন জবাব দিলো, ‘মধ্যরাতে মরসে।’

বাদলই তখন অন্যান্যদের নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে লাশের গোসল, কাফন, জানাজা ও কবরের ব্যবস্থা করে। এসব করতে করতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল। মানুষজন কমতেই কোহিনূর কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রথমে ফুঁফিয়ে ফুঁফিয়ে কান্না শুরু করে, পরে সেটা আর্তনাদে রুপ নেয়। বাদল বুঝে উঠতে পারে না কী করবে সে, কী করা উচিত। মেয়েটার যে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই এটা সে জানে। ঠিক সেই মুহূর্তে ইমাম সাহেব রাস্তা দেখান।

‘একটা পরামর্শ দিই বাবা, কিছু মনে কইরো না। এই মেয়েরে যদি এখন ফালায়া যাও তাইলে তার জীবনডা এইখানেই শেষ হইয়া যাইব। তোমার মাশাআল্লাহ অবস্থা ভালো। আমাদের শরিয়তেও চার বিয়া করা সুন্নাত। তুমি যদি মেয়েটারে বিয়ে করো তাইলে সে বাইচা যাইব। আর চাইলে অন্য কারও সাথে বিয়া দিতে পারো। এ ছাড়া আর উপায় দেখি না। কার মাইয়ারে কে খাওয়াইয়া পড়াইয়া রাখব, বলো?’

বাদল কোহিনূরের দিকে তাকায়। ইমাম সাহেবের কথা সেও শুনেছে। সে কী চায় সেটা জানা জরুরি। কোহিনূরের চোখে তখন অশ্রুর সাথে অনুনয়ও ভাসছিল। বাদল তাই আর বেশি ভাবেনি। তখনই নিজের কয়েকজন বন্ধু নিয়ে মসজিদেই বিয়ের কাজটা সেরে ফেলে। তাদের আকদ পড়িয়েছিলেন সেই ইমাম সাহেব। বিয়ে করে নতুন বউকে নিয়ে সে তার এক বন্ধুর বাড়িতেই থাকে। পরদিন পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে, ‘বাহাদুর মাস্টারের বড় পোলা ফইন্নির মাইয়ারে বিয়া করসে।’

একে তো ঘুম নেই চোখে তার ওপর টিনের চালে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ বড্ড একঘেয়ে লাগছে বাদলের। শোয়া থেকে উঠে কিছুক্ষণ পায়চারি করল সে। এতে অস্থিরতা আরও বেড়ে গেছে। বারবার কোহিনূরের কথা মনে আসছে। দুপুরবেলা সদ্যস্নাত কাঠগোলাপের মতোই দেখাচ্ছিল তাকে। পায়চারি করতে করতে বাদল পাশের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখে। রিংকি, পিংকির মাঝখানে শুয়ে ঘুমাচ্ছে কোহিনূর। একটু দূরে আলাদা বিছানায় রবি। সবাই ঘুমে কাদা। এমন ভারী বর্ষণে মধুর নিদ্রা হবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ বাদলের চোখের ঘুম কোথায় যেন লুকিয়ে গেছে।

নিজের ঘরে ফিরে আসে বাদল। খানিক পরে আবার পাশের ঘরে গিয়ে দেখে আসে। কয়েকবার ভেবেছে কোহিনূরকে ডাকবে। কিন্তু মনের ভেতর থেকে কে যেন তার মুখ চেপে ধরেছে। বিবেকে বাধছে তার। আগে প্রতি সপ্তাহে অথবা দুসপ্তাহ পর পর সে বাড়ি আসতো। মোমেনা যতই নাটক করুক না কেন গভীর রাতে বাদল ঠিকই তাকে আদর সোহাগে ভুলিয়ে নিজের প্রশান্তি খুঁজে নিতে পারতো।

কিন্তু এখন নিজের ঘরে শান্তি পায় না বাদল। না বউ না ছেলে-মেয়ে কেউই তাকে খুশি রাখার ব্যাপারে এতটুকু যত্নশীল না। তাই বাড়িতে আসে অনেক দেরি করেই। কখনো মাস পেরিয়ে যায়। মুদি দোকানে বলে রাখা আছে। মাছ, মাংসের ব্যাপারীদেরও বলে রেখেছে তার বাড়িতে কয়দিন পর পর যেন তাজা মাছ আর টাটকা মাংস দিয়ে আসে। বাজার সদাই নিয়ে তাই মোমেনার সমস্যা হওয়ার কথা না। এবার যখন প্রায় দেড় মাস পর ফিরেছে আসতে না আসতেই মোমেনার সাথে বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। এরপর ঘটনা তো গড়িয়ে অনেক দূর গেল।

যাই হোক, বাদল এক জন সামর্থ্যবান পুরুষ। এতদিন পর বাড়ি ফিরে বউকে কাছে পেতে ইচ্ছে করবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ মোমেনা সেই উপায় রাখেনি। এদিকে বিশের কোঠায় পা দেয়া কোহিনূরের প্রস্ফুটিত রুপ তাকে যেন হাত ইশারায় ডাকছে। মন বলছে ছুটে যায় তার কাছে। কিন্তু বিবেক বলছে, ‘শুধু থাকা-খাওয়া-পরার ব্যবস্থা করলেই কি স্বামী বলা যায়? দুই বছরে কোনোদিন কি কোহিনূরের মনের কথা, চাহিদার কথা ভাবছো তুমি? আইজ যখন মোমেনারে পাইতছ না তখন আসছ স্বামীগিরি ফলাইতে… ছিঃ! ধিক্কার তোমারে বাদল, ধিক্কার…’

পাশের ঘরে থেকেও বাদলের অস্থিরতা ঠিকই বুঝতে পারছে কোহিনূর। সেও ঘুমায়নি। চুপচাপ শুয়ে আছে। বাদল হয়তো আজই প্রথম এমন উতলা হয়ে গেছে, কিন্ত কোহিনূর ছটফট করে মরছে বাদল যে রাত থেকে এ বাড়িতে এসে থাকছে সে রাত থেকেই। কিন্তু নিজের মনকে শাসিয়ে গেছে সে, এত বেশি আশা করা উচিত না। তার এখন থাকার জন্য ঘর আছে, পরার জন্য কাপড় আছে, ভালোভাবে খেয়ে-পরে বাঁচতে পারছে সে। এই অনেক বেশি। বাদল সেদিন এগিয়ে না আসলে আজ সে কোথায় ভেসে যেত! তার অস্তিত্বই হয়তো বিলীন হয়ে যেত। আরও বেশি কিছু চাইতে গিয়ে এই আশ্রয়টুকু সে হারাতে চায় না।

নিজের জীবন থেকেই এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা হয়েছে কোহিনূরের। যখনই সে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছে, তখনই তার বর্তমানটাই ধ্বংস হয়ে গেছে। একারণেই বাদল যেমন রেখেছে তেমনই থাকতে চায় সে, তাকে ঘিরে বেশি স্বপ্ন দেখতে ভয় পায় কোহিনূর।

কিন্তু আশেপাশের মহিলারা প্রায়ই এসে তাকে এটা ওটা শিখিয়ে-পড়িয়ে দেয়। কীভাবে স্বামীর মন জয় করতে হবে, আঁচলে বেধে রাখতে হবে, স্বামীর জায়গা সম্পত্তিতে কীভাবে নিজের সন্তানদের হক প্রতিষ্ঠা করতে হবে এটা সেটা আরও কত কী…! সবাই-ই জানে বাদল মোমেনাকে বেশি ভালোবাসে, মোমেনার গুরুত্ব বেশি তার কাছে। কোহিনূর নামেমাত্র বউ। এটা সে নিজেও জানে আর মেনেও নিয়েছে। এতে তার কোনো দুঃখ নেই।

পাশের বাড়ির বুড়ি দাদি কোহিনূরকে স্নেহ করেন। তিনিও ফিসফিসিয়ে কত কী মন্ত্র শেখান! কিন্তু কোহিনূর বলে, ‘উনি উনার বউরে ভালোবাসবে এটাই তো স্বাভাবিক। ওই মহিলা তো শুধু বউ না, উনার চার বাচ্চার মাও তো।’
বুড়ি বলে, ‘তো কী হইসে? তুমার কি বাচ্চাকাচ্চা হইব না? হইবও বা ক্যামনে? জামাই তুমার কাছে থাকলেই তো হইব। একটা রাতও তো এইখানে থাকতে দেখলাম না। এইবার বাচ্চার কথা ভাবো বুবু। নিজের সংসার নিজে গোছাইয়া লও। নিজের দাবি ছাইড়ো না।’

কেউ বাচ্চার কথা বললেই কোহিনূর উদাস হয়ে যায়। আর কিছু বলতে পারে না। তার বুকটা ভারী হয়ে ওঠে। কত কথা জমা আছে তার বুকের ভেতর! একটা মানুষ ছিল, যার কাছে সব কিছু খুলে বলতে পারতো কোহিনূর, তার মা! সে চলে যাওয়ার পর থেকে বুকের ভেতর কেবল কথা জমা হয়েই যাচ্ছে, কাউকে বলে হালকা করা যাচ্ছে না। কথার পাহাড় বয়ে বেড়ানোর মতো কষ্টকর বুঝি আর কিছু নেই!

চোখের পানি উছলে পড়ার আগেই কোহিনূর দৌড়ে নিজের ঘরে চলে যায়। বুড়ি দাদি ভাবে বাচ্চার কথায় মেয়েটা লজ্জা পেয়েছে। এবার একটু সুবুদ্ধি হলে তো হয়।

শুয়ে শুয়ে নিজের অতীত-বর্তমান নিয়ে ভাবছে কোহিনূর তখনই কারও স্পর্শে চমকে উঠে। রাতের আঁধারেও বিছানার পাশে বাদলের দীর্ঘ দেহটার আবছায়া চোখে পড়ে। তার হাত ধরে টান দেয় বাদল। মাথা নিচু করে ইশারা করে পাশের ঘরে যাওয়ার।

কোহিনূরের ভয়ে গলা শুকিয়ে আসে। বাদল এত রাতে কেন ডাকছে? চুপচাপ উঠে পাশের ঘরে গিয়ে দেখে বাদল জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে যাবে কিনা কোহিনূর ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। সে কি আজ স্বামীর অধিকার আদায় করে নিতে চায়! এমন কিছু হলে তো, যে কথাটা কোহিনূর এতদিন গোপন করে রেখেছিল, যে গোপন কথা শুধু তার মা-ই জানতো, সেটা প্রকাশ্যে চলে আসবে। তখন কি বাদল তাকে মেনে নেবে? নাকি বের করে দেবে?

নানান আশঙ্কায় মনের ভেতর তোলপাড় শুরু হয়েছে তার, পিছিয়ে নিজের ঘরে চলে যাবে তখন বাদল তাকে দেখতে পেল। কোহিনূরের একেবারে কাছে এসে সলজ্জ মুখে বলল, ‘ঘুম আসতেছিল না তাই তোমারে ডাকলাম। ঘরে মুড়ি আছে?’

কোহিনূরের ভয় কাটেনি এখনো, সাথে বিস্ময়ও যোগ হয়েছে। চোখ বড় করে তাকিয়ে আছে বাদলের মুখের দিকে। বাদল বলে যাচ্ছে, ‘সইরষার তেল, কাঁচা মরিচ আর পেঁয়াজ দিয়া মুড়ি মাখা খাইতে ইচ্ছা করতেসে।’

বিস্ময়ের আতিশয্যে কোহিনূরের মুখে কোনো কথা আসে না। এই গভীর রাতে লোকটা মুড়ি মাখা খেতে ডেকেছে তাকে! ‘আনতিছি’ বলে কোহিনূর দ্রুত রান্নাঘরে চলে যায়।

বাদল কপাল চাপড়াতে থাকে। অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কোহিনূরকে ডেকে এনেছে সে। কিন্তু ডাকার পরে আফসোস করছে, এভাবে হুট করে কি কিছু হয়! কী বলবে ভেবে না পেয়ে শেষমেশ মুড়ি মাখানোর কথা বলেছে। এখন এত রাতে তাকে বসে বসে মুড়ি চিবোতে হবে!

কোহিনূর মুড়ি মাখাতে মাখাতে ভাবে আজকের মতো বাঁচা গেছে। কিন্তু পরে কোনোদিন যদি তার আশঙ্কা সত্যি হয়ে যায়! কোহিনূরের মনে অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে। একদিকে তার আশঙ্কা সত্যি না হওয়ার আনন্দ, অপরদিকে কিছু একটা না পাওয়ার বেদনা।

একই ঘরে দুটো মানুষের এই যে লুকোচুরি তা দেখে অদৃশ্য এক জন মুচকি মুচকি হাসছেন। এরা নিজেদের মতো ভাবলেই কী হবে? যা করার তা তো তিনিই করবেন। আর তিনিই জানেন, কার জন্য কী উত্তম হবে!

(চলবে)

*****

[কীওয়ার্ডস:

অবিচার [ দশম পর্ব ] | সালসাবিলা নকি

অবিচার [ দশম পর্ব ] : সালসাবিলা নকি

অবিচার [ দশম পর্ব ] – সালসাবিলা নকি

ছোটোগল্প | অবিচার [ দশম পর্ব ]

সালসাবিলা নকির ছোটোগল্প | অবিচার [ দশম পর্ব ]

ছোটোগল্প , সমকালীন গল্প , জীবনধর্মী গল্প, নন-ফিকশন , গল্পীয়ান]

মন্তব্য করুন:
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন: