একটি ইঞ্জিন ও হলুদ জামা

একটি ইঞ্জিন ও হলুদ জামা _ রাহুল চন্দ্র দাস

একটি ইঞ্জিন ও হলুদ জামা | রাহুল চন্দ্র দাস এক. বাজারের গলি-ঘুপচির মধ্যে বিশাল বিশৃঙ্খল ওয়ার্কশপ। তার এক কোনায় একটা পুরোনো ইঞ্জিন জবুথবু পড়ে থাকে। লোহা-লক্কড়ের স্তুপের মতো মুমূর্ষু পড়ে পড়ে ঝিমোয়। অলস ও ক্লান্ত দুপুরের আড্ডার সময় এর ওপর কেউ কেউ বসে থাকে। খাবার সময় হয়ে গেলে টেবিল বা খাট আশেপাশে খুঁজে না পেয়ে কেউ বা এরই বুকে-পিঠে বসে পড়ে। বিচিত্র ধাতব গন্ধের মাঝে ওয়ার্কশপের লোকজন, বিশেষত ছেলেটি বিচিত্র নাট-বল্টু নিয়ে বিচিত্রতর কাজ করে চলে। ওর নাম রাজন বা রবিউল বা অন্য কিছু হবে একটা। বাচ্চা বয়সের ছেলেটির এতসব…

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
পুরোটা পড়ুন

একজন মানুষের খোঁজে

একজন মানুষের খোঁজে | তানভীর তূর্য

একজন মানুষের খোঁজে | তানভীর তূর্য আমার পাশের সিটে বসে থাকা লোকটা বেশ অনেকক্ষণ ধরে বিশ্রীভাবে নাক ডেকেই যাচ্ছে। এই বিশ্রী নাক ডাকার শব্দ আমার কান দিয়ে মগজে প্রবেশ করে মগজ ওলটপালট করে দিচ্ছে। মাথা খুলে মগজ বের করার কোনো সিস্টেম থাকলে দেখা যেত ওলটপালট হওয়ার কারণে মগজ ভুনা ভুনা হয়ে গেছে। আমার ছোটো বোন তিতলির গোরুর মগজ ভুনা খুবই পছন্দ। কোরবানির সময় অধিকাংশ মগজ ওর পেটেই যায়। আমি নিশ্চিত আমার ভুনা ভুনা হয়ে যাওয়া মগজ পেলেও তিতলি বলত, ‘অসাধারণ! তোর মগজ ভুনার এত স্বাদ আগে বলিসনি তো ভাইয়া।’ এমনিতেই…

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
পুরোটা পড়ুন

বিছানা নাম্বার ৩২

বিছানা নাম্বার ৩২ | মৌলী আখন্দ

বিছানা নাম্বার ৩২ | মৌলী আখন্দ ‘বিছানা নাম্বার ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬ এর লোক সামনে আসেন। বিছানা নাম্বার ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬ এর লোক স্ক্যাবুর সামনে আসেন।’ মাইকিং করে কাউন্সিলিংয়ের খাতা হাতে নিয়ে সামনে গিয়ে বসল মৌটুসি। এটা স্ক্যাবু অর্থাৎ স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিট। এক থেকে আটাশ দিন পর্যন্ত বয়সি বাচ্চাদের রাখা হয়। জীবাণু সংক্রমণের ভয় থাকার কারণে রোগীর লোক, বাচ্চার মা-বাবা কারোরই এখানে ঢোকার অনুমতি নেই। তাই প্রতিদিন সকাল এগারোটা থেকে বারোটা পর্যন্ত কাউন্সিলিং টাইম। এই সময় মৌটুসির মতো ডিউটি ডাক্তাররা কাউন্সিলিং খাতা হাতে নিয়ে স্ক্যাবুর বাইরে…

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
পুরোটা পড়ুন

অচেনা বাঁকে

অচেনা বাঁকে | ফাহমিদা বারী

অচেনা বাঁকে | ফাহমিদা বারী এক. স্টেশনের চায়ের স্টলটাতে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে কলিমুদ্দীন। দোকানি সুরুজ আলীর সাথে খোশগল্প করতে করতে সুড়ুৎ সুড়ুৎ করে চা খাচ্ছিল সে। আহ্, ব্যাটা জব্বর চা বানায়। মন খালি আরও খাই আরও খাই করে। কাঁচের চ্যাপ্টা বয়ামের ভেতরে সাজানো বিস্কুটগুলোকে বড়ই লোভনীয় দেখাচ্ছিল। আলগোছেই দু’টা বিস্কুট হাপিস করার জন্য হাতটা বাড়িয়ে দিলো। সুরুজ আলীর সাথে কথোপকথনটাও চালু রেখেছে। ভাবখানা এমন যেন মনের ভুলেই হাতটা ঐদিকে চলে গিয়েছে, অন্য কিছু নয়। সুরুজ আলী খুব যত্নের সাথে হাতটা টেনে সরিয়ে দেয়। ‘কলিম ভাই, আইজগা চা খাইয়্যাই খুশি…

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:
পুরোটা পড়ুন