বিবর্তন

বিবর্তন | তৌফিক ফেরদৌস চাতক 

প্লেট ছুড়ে ফেলে দিলেন হাশেম উদ্দিন। কয়েকদিন ধরেই এই সমস্যায় ভুগছেন তিনি। কোনো খাবার ভালো লাগে না। মাঝে মাঝে মনে হয় জিহ্বাটাই খারাপ হয়ে গেছে। বিদেশে গিয়ে বদলে আসলে কেমন হয়? এত দিনে এরকম প্রযুক্তি তৈরি হয়ে গেছে মনে হয়। কুদ্দুসকে কিছুক্ষণ বকে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেলেন হাশেম উদ্দিন। ব্যাটা কুদ্দুস আজকাল কী যে রান্না করে কিছুই ভালো লাগে না। তবে এই সমস্যা নিরুপমা মারা যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে। নিরুপমা হাশেম উদ্দিনের প্রথম প্রেম। অবশ্য প্রেমটা শুরু হয় বিয়ের পরেই। দুমাস হলো ৭ দিন জ্বরে বিছানায় পরে থেকে মারা যায় নিরুপমা। আবারও একা করে দিয়ে যায় এই অদ্ভুত মানুষটাকে।

হাশেম উদ্দিন জফরগঞ্জ গ্রামের হাই স্কুলের অঙ্কের মাস্টার। ছেলেরা ওনাকে ডাকে কানাই মাস্টার। যদিও হাশেম সাহেবকে কানাই মাস্টার ডাকার কোনো কারণ নেই। উনার চোখ যথেষ্ট ভালো। তাও ছাত্ররা তাকে কানাই মাস্টার বলে ডাকে।

অষ্টম শ্রেণীর ‘খ’ শাখায় ঢুকে হাশেম উদ্দিনের মেজাজ দ্বিতীয় বারের মতো খারাপ হলো, উপস্থিতি নেই বললেই চলে। হাশেম উদ্দিন আবার অফিস রুমে ফিরে গিয়ে অ্যাটেনডেন্স খাতা নিয়ে এলেন। না যতটা কম মনে করেছিলেন ততটা নয়। মাত্র ১৪ জন পালিয়েছে। যাই হোক ক্লাস শুরু করলেন হাশেম উদ্দিন। পঞ্চম অধ্যায়ের তেইশ নাম্বার অঙ্কটা খুব ভালো ভাবে বুঝিয়ে করে দিলেন। তবুও কেউ বুঝেছে বলে মনে হয় না। হাশেম উদ্দিনকে ছাত্ররা যমের মতো ভয় পায়। হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘এই চতুর্থ বেঞ্চের কর্নারের জন বল এই লাইনের পর এই লাইন কীভাবে হলো?’

ছাত্রটি ভয়ে ভয়ে উঠে দাঁড়াল। ওর গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক কষ্ট করে বলল, ‘পারি না স্যার।’

হাশেম উদ্দিন রেগে যাচ্ছিলেন। যখন তিনি অঙ্কটা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তখন এই ছেলেটাই সবচেয়ে বেশি মাথা দুলিয়ে ‘বুঝেছি স্যার, বুঝেছি স্যার’ বলছিল। হঠাৎ করে নিজেকে চরম ব্যর্থ বলে মনে হলো। হতাশা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো হাশেম উদ্দিনকে।

আকাশ মেঘের গর্জনে ভারি হতে লাগল। একটু আগেও যে আকাশ পরিষ্কার ছিল, তুফানের মতো ঝড় শুরু হলো সেই আকাশে। হাশেম উদ্দিন চেয়ারে মাথা নিচু করে বসে আছে। নিরুপমার কথা খুব মনে পড়ছে উনার। মাথায় তীব্র যন্ত্রণা শুরু হলো হাশেম উদ্দিনের। ছোটবেলা থেকেই হাশেম উদ্দিনের এরকম হয়। যখনই তিনি তীব্র হতাশায় ভুগেন বা মন খারাপ হয় আকাশও সাথে সাথে ফেটে পরে। যদিও তিনি বরাবরই এইসব ঘটনাকে কাকতালীয় বলে মেনে এসেছেন। তবে আজকাল মন কেন মানতে চাইছেন না। হঠাৎ মাথার মধ্যে কীসের যেন আওয়াজ শুনতে পেলেন। কারা যেন ডাকছে উনাকে।

‘হাশেম! হাশেম!’

মাথা চেপে ধরলেন হাশেম উদ্দিন। শব্দটা আরও জোরে হচ্ছে। আস্তে আস্তে বাড়ছে। হঠাৎ স্কেল পরার শব্দে ঘোর কেটে গেল হাশেম উদ্দিনের। তিনি বসে আছেন সেই চেয়ারটাতেই। আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করেছে। হাশেম উদ্দিন হুংকার দিয়ে উঠলেন, ‘কে স্কেল ফেলেছে? কোন বাঁদর? এক্ষুনি বেঞ্চে উঠে দাঁড়া বলছি।’ আরেকবার হুংকার দিয়ে উঠলেন হাশেম উদ্দিন। একটু পর ভয়ে ভয়ে উঠে দাঁড়াল এক ছোকরা। মনে হয় একটু হলেই কান্না করে দেবে। হাশেম উদ্দিন চোখ বন্ধ করে বললেন, ‘আজ ছুটিরঘণ্টা পড়ার পর তুই বাড়ি যাবি না। এই রুমটা অনেকদিন ধরেই অপরিষ্কার হয়ে পড়ে আছে। পুরো রুমটা ঝাট দিয়ে তারপর তুই বাড়ি যাবি। ঠিক আছে? বস এবার।’

তখনকার মতো খাতা নিয়ে বেড়িয়ে এলো হাশেম উদ্দিন। তবে সেই আগন্তুকদের কথা ভুলতে পারলেন না। অফিস রুমে বসে বসে ভাবতে লাগলেন। পরের ঘণ্টায় উনার ক্লাস ছিল কিন্তু গেলেন না। ত্রিশ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এই প্রথম তিনি ক্লাসে গেলেন না। ভাবতে লাগলেন কোথা থেকে এলো সেই শব্দ।

‘হাশেম সাহেব, বসে বসে কী ভাবছেন?’ বললেন ইংলিশের মাস্টার জাহাঙ্গীর। হাশেম উদ্দিন মুখ তুলে বললেন, ‘না কিছু না। আপনার কী খবর?’

‘আমি তো ভালই আছি। তবে আপনাকে বিশেষ চিন্তিত বলে মনে হচ্ছে।’

‘আচ্ছা আপনি কি অতি প্রাকৃতিক ঘটনায় বিশ্বাসী?’

‘মানে?’

‘মানে যেমন ধরুন, একজন মানুষ যে কিনা রেগে গেলে সূর্য ক্রমাগত তার আলো ছড়াতে থাকে। চারপাশের তাপমাত্রা হু হু করে বাড়তে থাকে। আবার হতাশা বা মনে প্রচণ্ড দুঃখ পেলে আকাশ ভেঙে ঝড় হয়।’

‘হাশেম সাহেব আপনার শরীর টরির সব ঠিক আছে তো? কালকে রাতে ঘুম হয়েছিল নাকি কুদ্দুসের খাবারের বদহজম?’

হাশেম হতাশার গলায় বললেন, ‘আপনি ব্যাপারটা বুঝতে চাইছেন না। এরকমও তো হতে পারে যে প্রকৃতি বিশেষ ধরণের মানুষ চাইছে।’

‘হাশেম সাহেব আপনার শরীরটা মনে হয় খারাপ করছে। আমি বরং হেড মাস্টার সাহেবকে গিয়ে আপনার ছুটির কথা বলি। আর শুনুন আপনি আমাকে যা বলেছেন বলেছেন। অন্য কাউকে বলবেন না যেন। লোকে আপনাকে পাগল ভাববে।’

উঠে গেলেন জাহাঙ্গীর আলম। না, হাশেম উদ্দিনের যে শরীর খারাপ হয়নি সেটা তিনি ভালো করেই বুঝতে পারছেন।

আজ ছুটির ঘণ্টার পরও তিনি বাড়ি গেলেন না। ভাবতে লাগলেন ঘটনার আগাগোড়া। ত্রিশ বছরে এটাই প্রথম। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি গিয়ে উপস্থিত হলে কুদ্দুস কেমন যেন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কুদ্দুস কে চায়ের কথা বলে একটা বই নিয়ে বসলেন পড়বেন বলে। বইয়ে মন বসাতে পারছেন না। সেই ব্যথাটা আবার শুরু হয়েছে। পরপর দু কাপ চা খেলেন তারপরও ব্যথা কমল না। ব্যথাটা আস্তে আস্তে বাড়ছে। সেই লোক গুলোর আওয়াজ আবারও শুনতে পাচ্ছেন হাশেম উদ্দিন। আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে। হাশেম উদ্দিন আজ আর বিছানায় যেতে পাড়লেন না। চেয়ারেই ঘুমিয়ে পরলেন। হাশেম উদ্দিনের ঘুম ভাঙল ফজরের আযানের সময়। কুদ্দুস তখনো নাক ডকে ঘুমোচ্ছে। বাইরে গিয়ে নলকুপ থেকে পানি তুলে ওজু করলেন। এরপর নামাজ পড়ে বেরিয়ে গেলেন বাড়ি থেকে। আজ হাঁটতে খুবই ভালো লাগছে। সকাল সকাল পুরো গ্রামে একটা চক্কর দিয়ে চলে গেলেন স্কুলে। ইতোমধ্যে একটা গুজব ছড়িয়ে গেছে। স্কুল মাস্টার হাশেম উদ্দিন সকাল থেকে নিখোঁজ। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার সামাল দিতে বেশ কিছুক্ষণ সময় লেগে গেল। আজ অন্য শিক্ষকরাও হাশেম উদ্দিনের দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকাচ্ছে। যেন ভিন গ্রহের কোন প্রাণিকে প্রথম বারের মতো দেখছে। এই ব্যাপারটা হাশেম উদ্দিনের বেশি ভালো লাগল না। আবার কবে এরাই হাশেম উদ্দিন কে পাগল বলে ডাকা শুরু করে। তৃতীয় পিরিয়ডে হাশেম উদ্দিনের ক্লাস নেই। কেরানি এসে বলে গেল হেড মাস্টার সাহেব উনাকে ডাকছেন। ব্যাপারটা কোন দিকে গড়াচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। ৫ মিনিট থ মেরে থাকার পর হাশেম উদ্দিন হেড মাস্টারের রুমে গেলেন।

‘হাশেম সাহেব আপনি কি কোন কারণে বিষণ্ণতায় ভুগছেন?’ হেড মাস্টার চোখ কুঁচকে হাশেম উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে আছেন। হাশেম উদ্দিন বলল, ‘না স্যার। তবে আপনাকে বিশ্বাস করে বলা যায় ব্যাপারটা।’

‘বলে ফেলুন।’

‘স্যার, আপনি কি সুপার ন্যাচারাল কিছুতে বিশ্বাস করেন?’

‘করি। আবার করি না। এটা নির্ভর করে ব্যাপারটা আসলে কী!’

‘স্যার ছোটবেলা থেকে আমার একটা সমস্যা ছিল। তবে এটা ঠিক সমস্যা কিনা জানি না। ছোট বেলায় আমার মা যখন মারা যায় তখন আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল।’

‘মা মারা গেলে মন খারাপ হাওয়া স্বাভাবিক।’

‘ব্যাপারট আসলে সেটা না স্যার। আমার মা মারা যাওয়ার পর শীতের সময় আমাদের গ্রামে টানা ৩ দিনের বৃষ্টি হয়। সে কী বৃষ্টি! রাস্তাঘাট সব পানির নিচে ডুবে যায়।’

‘এরকম ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে। অসময়ে বৃষ্টি নামতেই পারে। এর সাথে আপনার কী সম্পর্ক?’

‘আমিও প্রথমে সেটাই ভেবেছিলাম স্যার। কিন্তু এরপর থেকেই আমার যখন মন খারাপ হয় তখনই বৃষ্টি নামে স্যার।’

‘স্টপ ইট। গাঁজাখুরি গপ্পেরও একটা লিমিট থাকে।’ হেড মাস্টার সুনিল কান্ত কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে থাকলেন। এরপর বললেন, ‘আপনি বলতে থাকুন।’ হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘নিরুপমাকে বিয়ে করার পর থেকে এটা বন্ধ হয়ে গেল। হতে পারে যে, নিরুপমা থাকাকালে আমার এক মুহূর্তের জন্যও মন খারাপ হয়নি। কিন্তু স্যার কাল থেকে ব্যাপারটা আবার ঘটছে। কালকের বৃষ্টির কথা মনে আছে স্যার?’

সুনিল কান্ত বললেন, ‘আমি আপনার কথা বিশ্বাস করি। কিন্তু তারও আগে আমার কাছে প্রাধান্য পাবে বিজ্ঞান। আপনি বরং কয়েকদিন বিশ্রাম নিন। আমি ৭ দিনের ছুটি দিয়ে দিচ্ছি। আর সামনের মঙ্গলবার আমি শহরে যাব, আপনিও আমার সাথে যাবেন। এখন আপনি বরং আসুন।’

হাশেম উদ্দিন অফিস ঘরে এসে বসে পড়ল। হেড মাস্টার সাহেব উনার কথা বিশ্বাস করেছেন কিনা বুঝতে পারছেন না। পানি অন্য দিকে গড়াচ্ছে। অন্যান্য শিক্ষকেরাও হাশেম উদ্দিনকে অন্য ভাবে দেখছে। মাথার যন্ত্রণাটা আবার শুরু হয়েছে।

‘হাশেম উদ্দিন, ও হাশেম উদ্দিন? কেমন আছেন?’

চোখ বন্ধ করে ফেললেন হাশেম উদ্দিন। অন্ধকারে ছায়ার মতো কয়েজনকে দেখতে পাচ্ছেন।

‘আমি ভালো আছি। কিন্তু আপনারা কারা?’ উনাদের সাথে কথা বলতে পারছেন হাশেম উদ্দিন। কিন্তু উনার মুখ নড়ছে না। তার মানে পুরোটাই ঘটছে ওনার মস্তিষ্কে।

‘আমরা প্রকৃতির বিশেষ সৃষ্টি। আমাদের অসামান্য ক্ষমতাবল দেওয়া হয়েছে। আপনিও আমাদের মধ্যে একজন।’

‘মানে? আমি বুঝতে পারছি না।’

‘আপনি আপনার স্ত্রী নিরুপমাকে অনেক ভালোবাসতেন তাই না?’

‘হ্যাঁ। কিন্তু?’

‘আপনি আপনার ক্ষমতা ব্যবহার করে তার সাথে কথা বলতে পারবেন। মনে রাখবেন আপনি অসীম ক্ষমতাধর। প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি। কিন্তু আপনি প্রকৃতির বাইরে যেতে পারবেন না। আপনি কল্পনায় অনেক কিছুই সৃষ্টি করতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে প্রকৃতির নিয়মে থাকতে হবে। আস্তে আস্তে আপনিও আমাদের মতো অনন্য হয়ে যাবেন। আমরা হলাম দ্বিতীয় মহাজাগতিক সাম্রাজ্যভুক্ত। আমরা এখন চলে যাচ্ছি। হেড মাস্টার সুনিল কান্ত আসছেন আপনার সাথে কথা বলতে। তিনি আসার সময় একটা নীল রঙা খাতা হাতে করে আসবেন। বিদায় বন্ধু।’

হাশেম উদ্দিন চোখ খুললেন। সবাই হাশেম উদ্দিনের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু পরেই সবাই যার যার মতো কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল। চতুর্থ ঘণ্টা পড়ে গেল। প্রায় সাথে সাথেই হেড মাস্টার এলেন। সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করল। উনার হাতে সত্যি সেই নীল রঙা খাতা। হেড মাস্টার এসে হাশেম উদ্দিনের সামনের চেয়ারটায় বসে পড়লেন।

‘হাশেম সাহেব আপনি কি আমার কাছ থেকে কিছু লুকিয়েছেন?’ বললেন হেড মাস্টার।

হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘জ্বী স্যার।’

‘নিঃসংকোচে বলে ফেলুন।’

‘মাঝে মাঝে মাথায় তীব্র ব্যথা হয়। তখন কারা যেন আমার নাম ধরে ডাকে।’

‘লাস্ট কখন ডেকেছে?’

‘আপনি আসার মিনিট ৫ আগে। আর আপনি যে নীল রঙের খাতা হাতে করে আসবেন সেটাও। ওরা বলেছে।’

‘হুম বুঝলাম। এই নীল রঙের খাতায় আপনার সব কথা লিখলাম। এতোক্ষণ ধরে বসে বসে আপনার কথাই ভাবছিলাম। আপনি প্রকৃতির অনন্য সৃষ্টি হাশেম সাহেব। আমি আপনাকে বিশ্বাস করি। আমার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় ছিল। উনিও আপনার মতো কথা বলতেন। ভবিষ্যৎ বাণীও করতে পারতেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন গ্রামের মানুষ খেপে গিয়ে উনাকে মেরে ফেলে। আপনার ক্ষেত্রে যেন এই ঘটনা না ঘটে সেদিকে আমি খেয়াল রাখব। হয়তো প্রকৃতি সত্যি বিবর্তন চাইছে। আমি গেলাম হাশেম সাহেব। নিজের খেয়াল রাখবেন।’

হেড মাস্টার সাহেব উঠে চলে গেল।।হাশেম উদ্দিন আজকেও আর কোনো ক্লাসে গেলেন না। মাথা নিচু করে বসে রইলেন সারাক্ষণ। বাড়ি গেলেন সন্ধ্যার অনেক পরে। কুদ্দুসও আজকাল হাশেম উদ্দিনকে ভয়ে ভয়ে দেখছে। কুদ্দুসকে আজ রাতে গরুর মাংস ভুনা করতে বলেছিলেন। রাতে খাবার সময় টের পেলেন, আজকে খেতে মন্দ লাগছে না। মনে হচ্ছে জীবনের সেরা গরু মাংস ভুনা খাচ্ছেন। বেশ তৃপ্তি করে খেলেন। এর আগে মাংস ওনার এত ভালো লাগেনি। খাওয়া শেষে কুদ্দুসকে ডাকলেন।

‘কুদ্দুস, আজ অনেক ভালো রেঁধেছিস রে। এই প্রথম ভালো রাঁধলি। এইনে পঞ্চাশ টাকা তোর পুরষ্কার। আর শোন কাল থেকে প্রতিদিন রাতে গরুর মাংস রাঁধবি।’

কুদ্দুস টাকা নিয়ে মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। আজ রাতে মহাজাগতিক সাম্রাজ্যের কেউ এলো না। হাশেম উদ্দিন সারা রাত জেগে রইলেন। ফজরের আযান পরে গেল, তাও ওদের দেখা পাওয়া গেল না। হাশেম সাহেব ওজু করে এসে ফজরের নামাজ আদায় করলেন। শরীর ভেঙে পরছে। এখন একটু বিশ্রাম দরকার। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলেন। ঘুম আসতে বেশি দেরি হলো না। ঘুমের মধ্যেই নানা ধরনের আজগুবি স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। একবার দেখলেন নিরুপমা মাত্র উনার প্রথম সন্তান হীমাগ্রী কে জন্ম দিলেন। হাশেম উদ্দিন সেদিন বাজারের সবাইকে ধরে ধরে মিষ্টি খাইয়েছিলেন। কেটে গেছে ২৭ টি বছর কিন্তু মনে হয় এইতো সেদিন।

হাশেম উদ্দিনের দুই মেয়ে। হীমাগ্রী আর জয়তী। দুই মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন। তারা শুধু ঈদের সময়ই জামাই নিয়ে বেড়াতে আসে।

হাশেম উদ্দিনের ঘুম ভাঙল বেলা ১২ টায়। স্কুলে যেতে পারলেন না। অবশ্য সুনিল কান্ত বাবু ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। তবুও যাওয়া উচিত ছিল। কুদ্দুস কোথায় যেন হাওয়া খেতে গেছে। নিজেই চা বানিয়ে খেলেন। উঠানের আম গাছটার নিচে চেয়ার পেতে বসলেন। ভাবতে লাগলেন উনার সাথে যা কিছু ঘটছে তা কি সত্যি নাকি নিজের মনের ভুল। বুঝতে পারছেন না হাশেম উদ্দিন। আবার মাথায় সেই তীব্র যন্ত্রণাটা শুরু হলো।

‘হাশেম উদ্দিন?’

হাশেম রোবটের মতো বললেন, ‘হ্যাঁ।’

‘তোমার কি আমাদের ওপর সন্দেহ আছে?’

‘হ্যাঁ।’

‘কেন?’

‘কারণ বিজ্ঞানের যুক্তি আপনাদের ওপর খাটে না।’

‘হুম সেটা ঠিক। এই পৃথিবীতে এমন অনেক কিছুই আছে যা বিজ্ঞানের যুক্তির উর্ধ্বে। বিজ্ঞান কিন্তু প্রকৃতির রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। তোমার মনে কি এখনো সন্দেহ আছে?’

‘হ্যাঁ আছে।’

‘আচ্ছা। ওই যে সামনে একটা খালি পানির বালতি আছে দেখতে পাচ্ছ?’

‘হ্যাঁ।’

‘তুমি তোমার শক্তি কাজে লাগাও, হাশেম। মনে মনে ভাবো তুমি সবচেয়ে ক্ষমতাধর দ্বিতীয় মহাজাগতিক শক্তির অধিকারী। মনে মনে ভাবো যে বালতিটি শূন্যে ভাসছে আর তার থেকে অবিরত পানি পড়ছে।’

‘এটা অসম্ভব।’

‘তুমি ভাবো হাশেম। তুমি ভাবো।’

হাশেম ভাবতে লাগল। হঠাৎ করেই হাশেমের শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ খেলে গেল। নিজেকে অসীম ক্ষমতাধর বলে মনে হলো। আস্তে আস্তে পানির বালতিটি উপরে উঠতে শুরু করল। ৭ ফুটের মতো উপরে উঠে থেমে গেল। এরপর অবিরত পানি পড়তে থাকল। ঠিক ঝরনার মতো। এর কোনো বিরতি নেই। হঠাৎ করে কুদ্দুসের গলার আওয়াজ পেলেন হাশেম উদ্দিন। উপর থেকে ঠাস করে বালতি নিচে পরে গেল। এখন আর পানি পড়ছে না। হাশেম উদ্দিনের মাথা ভারি ভারি লাগছে। মনে হচ্ছে সারা পৃথিবী ঘুরছে। এটা মোটেই ভালো লক্ষণ নয়। কুদ্দুস বালতির কাছে এসে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার, আপনার কী হয়েছে?’

হাশেম উদ্দিন উত্তর দিলেন, ‘কিছু না কুদ্দুস। তুই দেখ তো বালতি ফেটে গিয়েছে কিনা।’

‘জ্বী স্যার।’

‘এইনে ১০০ টাকা। বাজার থেকে একটা বালতি কিনে আন। আর দুপুরের জন্য গরুর মাংস রেঁধে ফেল। আজ দুপুরেও খাব।’

কুদ্দুস টাকা নিয়ে চলে গেল।

হাশেম উদ্দিনে মাথা ভন ভন করছে। বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরলেন। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এসে গেল। কাঁথা গায়ে দিয়ে চুপচাপ শুয়ে রইলেন। কুদ্দুস বাজার থেকে নতুন বালতি কিনে এসে দেখল হাশেম উদ্দিন জ্বরে কাঁপছে। গায়ে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। ভয় পেয়ে গেল কুদ্দুস। দৌড়ে গিয়ে হেড মাস্টারকে বলল। হেড মাস্টার তখনই বাজারে গিয়া হেমন্ত ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে হাশেমের বাড়ি উপস্থিত হলেন। হাশেমের জ্ঞান আছে কিন্তু গায়ে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। হেমন্ত ডাক্তার থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপার চেষ্টা করলেন। ১০৩ ডিগ্রী জ্বর। বেশ কিছু ঔষধ লিখে দিলেন। দুপুরে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাওয়ানো হলো, তারপর ঔষধ। কিন্তু কাজে দিলো না। জ্বর বেড়ে ১০৪ ডিগ্রী হলো। হেমন্ত ডাক্তার, ‘আমার আর কিছুই করার নেই’ বলে বিদায় হলেন। সুনিল কান্ত বাবু চিন্তিত অবস্থায় তিনটের দিকে বাড়ি গেলেন।

কুদ্দুস ভয়ে ভয়ে রইল সারাক্ষণ। ভালো মন্দ কিছু না হয়ে যায় আবার। বিকেলের দিকে হাশেম উদ্দিনের জ্বর কমে এলো। কুদ্দুসকে ডেকে আবার গরুর মাংস দিয়ে পেট ভরে ভাত খেলেন। খবর শুনে আবার সুনিল কান্ত বাবু ছুটে এলেন।

‘আপনার কী হয়েছিল বলুন তো?’ বললেন সুনিল কান্ত বাবু।

হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘সঠিক বলতে পারব না। মনে হয় আমার মাঝে কিছু অসীম শক্তি এসেছে।’

‘মানে?’

‘মানে যেমন ধরুন আমি কোনো কিছু স্পর্শ না করেই শূন্যে তুলতে পারি।’

‘ও। ভালো।’

‘হ্যাঁ। আমি আরও অনেক কিছু করতে পারব বলে মনে হচ্ছে।’

‘ও। আচ্ছা আমি এখন উঠি। মঙ্গলবারের কথা মনে থাকে যেন।’

সুনিল কান্ত বাবু উঠে চলে গেলেন। শুধু শুধু হাশেম উদ্দিনকে গাঁজাখুরি গল্পটা বলেছিলেন যে উনার এক দুঃসম্পর্কের আত্মীয় ভবিষ্যৎ দেখতে পারতেন। হাশেম উদ্দিনের মাথাটা বোধয় সত্যিই খারাপ হয়ে গেছে।

রাতের খাবার পর কুদ্দুসকে মোমবাতি জ্বালিয়ে দিতে বললেন। এমনিতে ঘরে ইলেক্ট্রিসিটি আছে তবুও কেন মোমবাতি জ্বালাতে বললেন সেটা বিরাট রহস্য। টেবিলে মোমবাতি রেখে হাতে এক টুকর কাগজ আর কলম নিলেন। কুদ্দুসের এসব কিছুই ভালো লাগছে না। বাইরের জানালা দিয়ে দেখতে লাগল কী ঘটে।

হাশেম উদ্দিনের মাথার যন্ত্রণাটা শুরু হলো।

‘হাশেম উদ্দিন। আমরা এসেছি।’

হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘আমার আর কী কী শক্তি আছে। আর তখন এইরকম জ্বরই বা এসেছিল কেন?’

‘আপনি আস্তে আস্তে আমাদের মতো হয়ে যাচ্ছেন হাশেম উদ্দিন। এর জন্যই জ্বর এসেছিল। আর আপনার মধ্যে আমাদের শক্তি জেগে উঠছে।’

‘আমি কী নিজে শূন্যে ভাসতে পারি?’

‘হ্যাঁ! পারেন।’

হাশেম উদ্দিন চেষ্টা করতে লাগলেন শূন্যে ভাসার। শরীরে একটা ঝাঁকুনি দিলো। আস্তে আস্তে শূন্যে ভেসে উঠছেন হাশেম উদ্দিন। কুদ্দুস হাশেম উদ্দিনের ভেসে উঠাকে নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারল না। দৌড় লাগাল সর্বশক্তি দিয়ে। হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘আমি কি আমার মৃত স্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারি?’

‘হ্যাঁ পারেন! তবে মনে রাখবেন প্রকৃতি বিরোধী কোনো কাজ আপনি করতে পারবেন না। আপনি প্রকৃতির সৃষ্টি।

‘ঠিক আছে।’

হাশেম উদ্দিন চেষ্টা করতে লাগলেন কথা বলতে। হ্যাঁ, ওই তো দেখা যাচ্ছে নিরুপমাকে সেই বিয়ের সাজে। কী সুন্দর লাগছে তাকে! হাশেম উদ্দিনের চোখে পানি চলে এলো। সারা রাত ধরে কথা বললেন নিরুপমার সাথে। কত না কথা। ফজরের আযানে ঘুমুতে গেলেন হাশেম উদ্দিন।

ঘুম ভাঙল বেলা ১১ টায়। উঠে দেখেন উনার প্রথম সন্তান হীমাগ্রী এসেছে স্বামীকে নিয়ে। ওকে বেশ চিন্তিত দেখাল। ‘বাবা তোমার কী হয়েছে বলো তো?’ হীমাগ্রী বলল।

হাশেম উদ্দিন বললেন, ‘কই? আমার কিছু হয়নি তো।’

‘তবে যে ওরা বলছিল তুমি স্বপ্নে কী সব দেখতে পাও?’

‘দেখ, আমি ঠিক আছি। আমাকে নিয়ে তোদের বেশি চিন্তিত হতে হবে না।’

দুদিনের মাথায় গ্রামে রটে গেল হাশেম উদ্দিন পাগল হয়ে গেছেন। সে নাকি ঘুমের মাঝে কী সব দেখতে পায়। গ্রামের ছেলেমেয়েরাও তাকে হাশেম পাগলা বলে খেপাতে লাগল। ফলাফল তিনিও পাগলদের মতো ওদের ধাওয়া করেন আর বলেন, ‘আমি পাগল নই, আমি পাগল নই।’ হাশেম উদ্দিনের স্কুলে যাওয়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেল। এখন তিনি দিনরাত তিনি শুধু নিরুপমার সাথে কথা বলেন আর সেই মহাজাগতিক মনুষ্যের সাথে। যারাই কিছুদিন পর পুরো ভ্রমাণ্ড শাসন করবে। দিন দিন হাশেম উদ্দিন নিরুপমার দিকে দুর্বল হয়ে যাচ্ছেন। এক মুহূর্ত তিনি নিরুপমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারেন না। সুনিল কান্ত বাবু মাঝে মাঝে আসেন হাশেম উদ্দিনের সাথে দেখা করতে। এখন আর হাশেম উদ্দিনকে চেনা যায় না। মাথা ভর্তি ঝাঁকরা চুল। গাল ভর্তি দাড়ি। সাধারণ কেউ দেখেলে ভয় পাবে নিশ্চিত। বেশ কিছু দিন পর সুনিল কান্ত বাবু একটা চিঠি পেলেন। চিঠি নিয়ে এসেছে কুদ্দুস।

স্যার,

প্রথমে আমার সালাম নেবেন। আমি যেই মহাজাগতিক শক্তির কথা বলেছিলাম সেই শক্তি আসলেই সত্য। প্রকৃতি বিবর্তন চাইছে। আর এই বিবর্তনটা হবে আমার মতো মহাজাগতিক ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের দ্বারা। আমি জানি প্রথম প্রথম আপনি আমার শক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও আপনি এখন আমার শক্তিতে বিশ্বাসী। আমার মধ্যে এখন অসামান্য শক্তি ভর করেছে। আমি এখন সবার মনের কথা পড়তে পারি। আমার সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে স্যার। আমি বোধ হয় প্রকৃতির নিয়ম মানছি না। আর প্রকৃতি এটা সহ্য করবে না। আমি আবার নিরুপমার প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছি স্যার। বিদায়।

ইতি

হাশেম উদ্দিন

সহকারী শিক্ষক (গনিত)

জফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়।

সুনিল কান্ত বাবুর উচিত ছিল হাশেম উদ্দিনের সাথে দেখা করতে যাওয়া। কিন্তু তিনি গেলেন না।

এই ঘটনার তিন দিনের মাথায় আকাশ ফেটে বৃষ্টি নামল। সে কী বৃষ্টি! এর কোনো বিরাম নেই। ক্রমে ক্রমে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। চারপাশ ক্রমশ ভারি হয়ে আসছে। সবাই এই ঘটনাকে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নিলেও মানতে পারলেন না সুনিল কান্ত বাবু। ভাঙা ছাতাটা হাতে নিয়েই বেরিয়ে পরলেন বাড়ি থেকে। যত সময় যাচ্ছে আকাশের কান্না ততই বেড়ে চলছে। নদী ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে চলছে। বেশ কিছু ঘরবাড়ি চলে গেছে নদীর গর্ভে।।সুনিল কান্ত বাবু যখন হাশেম উদ্দিনের বাড়ি গিয়ে পৌঁছালেন তখন ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়েছে। তার মধ্যে উঠানে শূন্যে ভেসে আছে হাশেম উদ্দিন। তার চারপাশে আলোর ঝলকানি। ছাতা পরে গেল সুনিল কান্তর হাত থেকে। আরেকটা আলোর ঝলকানির সৃষ্টি হলো। সেই ঝলকানি থেকে বেড়িয়ে এলো নিরুপমা। সুনিল কান্তর মাথা ঘুরছে। এ-তো অসম্ভব। মৃত ব্যক্তি কখন জীবন ফিরে পেতে পারে না। প্রকৃতি বিরোধী। তবে কি হাশেম উদ্দিন এই চলে যাওয়ার কথাই বলেছিলেন? বজ্রপাত শুরু হলো অস্বাভাবিক ভাবে। হাশেম উদ্দিন শেষ বারের মতো জড়িয়ে ধরলেন নিরুপমাকে। না অদৃশ্য হয়ে গেল নিরুপমা। চারপাশ দিয়ে একটি শব্দই ভাসতে লাগল, ‘হাশেম উদ্দিন, আপনি প্রকৃতির নিয়মের বাইরে চলে গেছেন। প্রকৃতি আপনাকে মেনে নেবে না। আপনার শাস্তি প্রকৃতিই আপনাকে দেবে।’ এর উত্তরে হাশেম উদ্দিন কিছু বলে না। আরও একটু ওপরে উঠে যায় আকাশের। সুনিল কান্ত বাবু চেয়ে আছেন আকাশের পানে। আরেকটা আলোর ঝলকানিতে ফেটে পরলেন হাশেম উদ্দিন। হাওয়ায় মিলিয়ে গেল তার অস্তিত্ব। মৃত্যু ঘটল আরেকটি অদৃশ্য ভালোবাসার। এই ঘটনা সুনিল কান্ত বাবু কাউকে বলেননি। এরকম অতিপ্রাকৃত ঘটনা কাউকে বলতে নেই।

বিবর্তন | তৌফিক ফেরদৌস চাতক

 

আরও পড়ুন: অগল্প আগল্প ইগল্প 

আরও পড়ুন: নিভৃত ভালোবাসা

[কীওয়ার্ডস:

বিবর্তন | তৌফিক ফেরদৌস চাতক

বিবর্তন – তৌফিক ফেরদৌস চাতক

বিবর্তন : তৌফিক ফেরদৌস চাতক

বিবর্তন

তৌফিক ফেরদৌস চাতক

তৌফিক ফেরদৌস চাতকের ছোটগল্প | বিবর্তন

তৌফিক ফেরদৌস চাতকের ছোটগল্প – বিবর্তন

তৌফিক ফেরদৌস চাতকের ছোটগল্প : বিবর্তন

তৌফিক ফেরদৌস চাতকের গল্প | বিবর্তন

তৌফিক ফেরদৌস চাতকের গল্প – বিবর্তন

তৌফিক ফেরদৌস চাতকের গল্প : বিবর্তন

ছোটগল্প | বিবর্তন

ছোটগল্প , গল্পোদ্যান , সমকালীন গল্প , জীবনধর্মী গল্প , রহস্য গল্প , ফিকশন , গল্পীয়ান]

মন্তব্য করুন:
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত পোস্ট