বিয়ে ঠিক

বিয়ে ঠিক

আমার বাবা আমার বিয়ের জন্য ইনভেস্ট করছেন। বাবার ইনভেস্ট করাটা খুব মজার লেগেছে আমার। তিনি আমাকে কড়ি কড়ি টাকা খরচ করে ভার্সিটি পড়াচ্ছেন, যাতে বর পক্ষদের একটা সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন। আর আমি সেই সার্টিফিকেট আমার কর্তাকে দেখিয়ে বছর বছর বাচ্চা উৎপাদন করব আর পরিবার সামলাব।

আমার বিয়ে ঠিক হয়ে আছে অনেক আগে থেকে। তারা বলেছে, আমার গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হলে বিয়ের অনুষ্ঠান করা হবে। আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, ‘গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করে আমি কি জব করতে পারব?’
তারা বলেছে, ‘সংসার সামলাবে।’ বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আমি প্রতিবাদ করতে পারলাম না। তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, ‘তাহলে কী দরকার গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করার? এখুনি বিয়ের পিড়িতে বসে যায়!’
বরপক্ষের একজন হেসে বলল, ‘তা তো হয় না মা। তোমার গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করা লাগবে। তা ছাড়া কমপ্লিট না করলে তো আমাদের স্ট্যাটাসের সাথে মিলবে না।’

আমি আজ নতুন কিছু শিখলাম, বাচ্চা আর সংসার সামলাতে সার্টিফিকেট লাগে। এও শিখলাম, স্ট্যাটাস মিলাতে গ্র্যাজুয়েশন করা লাগে। আমার বাবা তাদের কোনোকিছুতে দ্বিমত করেননি। দ্বিমত না করার পেছনে একটা সুনির্দিষ্ট শক্ত কারণ আছে।

সন্ধ্যায় ছাদে আমি একা বসে থাকি। তখন শিল্পীর নানা রঙের তুলির আঁচড়ে আঁকা মেঘ লেপ্টে থাকে আকাশে। গাছগুলোকে অলসতা চেপে ধরে, নড়াচড়াবিহীন ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। গাছের ফাঁকে শেষ গোধূলি দেখা যায়, সন্ধ্যার শেষে পাখিরা নীড়ে ফিরে যায়। এক ঝাঁক পাখি একসাথে উড়ছে- দৃশ্যটা আমাকে মুগ্ধ করে। একটা চড়ুই পাখি প্রতিদিন ছাদের কার্নিশে আমার দিকে মুখ করে বসে কিচির-মিচির শব্দ করে। মন খারাপ থাকলে আমি তার সাথে কথা বলি না। আজ আমার মন খারাপ। মিছে বিকেল, মনে মেঘ; চোখে মেঘের আবেগ। সে আবেগ বেগ হারিয়ে অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে। সে বৃষ্টিতে কাজল ভেসে বেড়ায়। সে কাজল কুড়ানোর কেউ নেই!

– কিচির মিচির।
– হু মন খারাপ।
– কিচির মিচির…কিচির মিচির।
– উঁহু, মন খারাপের কারণ বলা যাবে না।

সে হুট করে উড়ে চলে গেছে। বুঝেছি, আমার কথায় সে মন খারাপ করেছে। এক দিন সবার কথায় আমিও মন খারাপ করে দূরে কোথাও উড়ে চলে যাব , যেখানে গেলে কেউ আর কোনো দিন ফিরে আসে না। আচ্ছা, চড়ুই পাখির মতো আমার মন খারাপের কারণ রাহির জানতে চাওয়া দরকার ছিল না? রাহি দিন দিন অদ্ভুত হয়ে যাচ্ছে! নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। মেয়েরা প্রথমে স্বামীর ক্যারিয়ার দেখে না, তারা দেখে প্রিয়মানুষটি কেমন করে তার খোঁজখবর রাখছে, যত্ন নিচ্ছে, সময় দিচ্ছে। রাহি কি এইসব জানে না?

কীওয়ার্ডস: [ বিয়ে ঠিক – গাজী মোহাম্মদ মোমিনুল হক , বিয়ে ঠিক , গাজী মোহাম্মদ মোমিনুল হক , গল্পীয়ান , গল্পোদ্যান , অণুগল্প , প্রেমের গল্প , রোমান্টিক গল্প , বিয়োগাত্মক গল্প ]

মন্তব্য করুন:
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন:

সম্পর্কিত পোস্ট